ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাসভবনের সামনে সংঘটিত বিক্ষোভের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত, অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে ঘিরে ভারত যে ‘বিভ্রান্তিকর প্রচার’ চালানোর কথা বলছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জানানো হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়ালের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অবস্থান জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শনিবার রাতে দিল্লিতে ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনা’র ব্যানারে একদল বিক্ষোভকারী বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে অবস্থান নেয়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে তারা ব্যানার ও স্লোগান নিয়ে হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ করে এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয়। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের ওই বিক্ষোভকারী দলের পক্ষ থেকে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর ভারতীয় পক্ষ দাবি করেছে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ হাইকমিশনের জন্য কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে। দিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই মন্তব্য করেন।
এর জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুষ্কৃতকারীদের হাইকমিশনের সীমানার ঠিক বাইরে এমন কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়, যার ফলে কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থানরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আরও বলা হয়, এ ধরনের একটি সংগঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচি সম্পর্কে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে আগাম কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে ভারত সরকারের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে।
এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাসকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, ভারত এ ঘটনাকে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হিসেবে উপস্থাপন করার যে চেষ্টা করছে, বাংলাদেশ তা প্রত্যাখ্যান করে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের বাংলাদেশ সরকার দ্রুত গ্রেপ্তার করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি ভালো এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এ অঞ্চলের সব দেশের সরকারেরই দায়িত্ব বলে বাংলাদেশ বিশ্বাস করে।
